‘মাছ গোস্তর চেয়ে সবজি কিনি খাওয়াই কঠিন হয়া গেইছে’

‘হামরা গরীব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। এখন তো মাছ গোস্তর চেয়ে সবজি কিনে খাওয়াই কঠিন হয়া গেইছে।’ কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাওটানা হাটে সবজি কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম। শুধু সাইফুল ইসলাম নয়, তার মতো অনেকে সবজি কিনতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।

সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও রংপুরের পীরগাছায় আলুর দাম কমেনি। গত বুধবার খুচরা বাজারে ৩০ টাকা কেজি আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এর পরেও হাটবাজারে আলুর দাম কমছে না।
আজ রবিবার দুপুরেও উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুধু আলু নয়, বাজারে প্রতিটি সবজির দাম আকাশছোঁয়া। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দামে সবজি বিক্রি করছেন। বাজারে শীতকালীন আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও বেশি দামের কারণে তা দরিদ্রদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে।

উপজেলার কৈকুড়ী, কান্দি ও পাওটানা হাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু প্রতিকেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ২২০ টাকা, পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, ছোট করলা ১২০ টাকা, বড় করলা ১০০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কচু ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০, টমেটো ১২০, শসা ৫০, ধনেপাতা ৩০০ ও লতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমনকি কাঁচাকলা প্রতি হালি ২৫-৩০ টাকা, দেশি লেবু ২০ টাকা হালি করে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলায় ৫৬০ হেক্টর জমিতে রবিশস্যের চাষাবাদ হয়েছিল। বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ৭২ হেক্টর জমির রবিশস্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় এক হাজার ৫০০ কৃষক।

সবজি বিক্রেতারা বলছেন, চলতি মৌসুমে পাঁচ দফা বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে রবিশস্য চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো যেত। কিন্তু আগাম সবজি নষ্ট হওয়ায় এখন বাইরের উপজেলা থেকে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে এসে বিক্রি করা হচ্ছে। তাই সবজির দাম বেড়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে সবজির দাম বাড়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু গেল দু’সপ্তাহ ধরে সবজির দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। বাজারে প্রশাসনের সুষ্ঠু নজরদারী না থাকায় অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে প্রতিটি সবজিই কেজিপ্রতি কয়েক গুণ বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে।

দেবী চৌধুরাণীর হাটে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা মমিন মিয়া বলেন, বাজারে সব ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম অন্যান্য সময়ের তুলনায় চারগুণ বেশী। আমার মতো অনেকের কেনার সামর্থ্য নেই।

আশরাফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। বর্তমান বাজারে প্রায় প্রতিটি সবজি ক্রয় সীমার বাইরে চলে গেছে।

পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান বলেন, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে আগাম সবজির ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাজারে কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরো নতুন সবজি বাজারে আসবে। এতে সবজির দাম কমবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত বাজার মনিটরিং শুরু করা প্রয়োজন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুরের সহকারী পরিচালক রোকসানা পারভীন বলেন, বর্তমানে রংপুর সদরে আমাদের অভিযান চলছে। তবে দ্রুত পীরগাছায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *