দুই সন্তান, সংসার ও চাকরি সামলেও ক্যাডার হলেন ঢাবির শাহনাজ

সদ্য ঘোষিত ৩৮তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে ইতিহাস বিষয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছেন শাহনাজ পারভীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন তিনি। তার এই ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়াটা মোটেও সহজ ছিল না। দুই সন্তান সামলেছেন, চাকরি করছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকে। সংসার সামলানোর দায়িত্ব তো আছেই। এরমধ্যেই নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছেন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য। শাহনাজ পারভীন ছাত্রী হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী। দাখিল এবং আলিম উভয়

পরীক্ষাতেই পেয়েছেন জিপিএ-৫। পরে চান্স পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, শেষ করেছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। তার বিয়ে হয় আলিম প্রথমবর্ষে থাকতেই। তবে তা তার সাফল্যের পেছনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে দ্বিগুন সহযোগিতা পেয়েছেন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে। দুই সন্তান, সংসার এবং চাকরি করেও বিসিএস জয়ের গল্প বলতে গিয়ে শাহনাজ মাসুম জানান, তার ব্যাংকে চাকরি হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সময় তেমন পেতেন না। তবে সন্ধ্যায় অফিস থেকে

ফেরার পর তার স্বামী মো. মাসুম সন্তানদের দেখাশোনা করতেন। এতে যতটুকু সময় পেয়েছেন, পড়াশোনা করেছেন। শাহনাজ বলেন, আমার স্বামী আমাকে শুরু থেকেই উৎসাহ দিয়ে গেছেন। ফলে পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে পেরেছি। তিনি উৎসাহ না দিলে হয়তো আজ এতদূর আসা সম্ভব হতো না। এছাড়া বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে থাকা বান্ধবী নাজমুন নাহার মল্লিকাও যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি। তীব্র চাপের মধ্যে থেকেও নিজের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে সময় পেতাম তাতে

সব বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ ছিল না। সেজন্য আমি বিজ্ঞান, ইংরেজি এবং গণিতে বেশি সময় দিয়েছি। এছাড়া নিজের বিষয় ইতিহাস হওয়ায় কিছুটা এগিয়ে ছিলাম। সবমিলিয়ে বিসিএসের জন্য নিজেকে ভালোভাবেই প্রস্তুত করতে পেরেছি।’ কর্মজীবী কিংবা বিয়ের পরও যেসব নারী বিসিএসসহ সরকারি চাকরি করতে চান তাদের উদ্দেশ্যে শাহনাজ বলেন, ‘নারীদের সংসারের চাপ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যেও সময়টা বের করে নিতে হবে। যে বিষয়গুলো পড়লে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া

যাবে, সেগুলো বেছে বেছে পড়তে হবে। তাহলেই সাফল্য আসবে বলে আমি মনে করি।’ শাহনাজের এই সাফল্যের বিষয়ে তার স্বামী পেশায় সরকারি ব্যাংকার মো. মাসুম বলেন, ‘তার পরিশ্রমই তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। এত কাজ সামলেও বিসিএস ক্যাডার হওয়া সত্যিই অনেক কঠিন। তাকে নিয়ে আমি অনেক গর্ব করি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *