একটি কলা, যার দাম হাজার কোটি টাকা

সময় হয়ে যাওয়ায় তখন বাজার খালি করছিলাম। হঠাৎ বাজারের এক কোনায় ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ ও তার মে’য়েকে দেখলাম। লোকটি হাতে ২-৩টা কাগজ নিয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছেন। ওটা ছিল ত্রানের ফর্ম। এই ফর্ম কাকে দিয়ে পূর্ণ করবে সেটাই বুঝতেছে না। বৃদ্ধ লোকটির কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম, কি হয়েছে চাচা? জবাবে তিনি বললেন, ‘কিছু না বাবা। এই কাগজটা লিখতে হবে। ছোট ওই চায়ের দোকানটা আমা’র। ওই দোকানের মধ্যেই আমি থাকি। আমা’র কাছে খাওয়ার কিছু নাই। খুব ক্ষুধা লেগেছে।’ সব কথা শুনে জে’লা প্রশাসনের তরফ থেকে তাকে খাদ্য সামগ্রী দেয়া হল।

ঘটনাটি এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু এখানেই শেষ হল না। এবার ওই বৃদ্ধ লোকটি তার দোকান থেকে ৭-৮ টা কলা নিয়ে আসলেন। তিনি বললেন, ‘বাবা, কিছু করেন না। তোমাদের মুখ শুকায় গেছে। মনে হয় অনেকক্ষন কিছু খাওনি। এই কলা কয়টা খেয়ে নাও। তিনি জো’র করে সবার হাতে একটা করে কলা ধরিয়ে দিলেন।’

এই দৃশ্য দেখে আমা’র সাথে থাকা সব পু’লিশ সদস্য চোখে পানি চলে আসলো। আমা’র চোখেও পানি চলে আসলো। ওই বৃদ্ধ লোকটাকে জড়িয়ে ধরতে মন চাইছিল কিন্তু পারলাম না। মনে হচ্ছিল আজ এই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষকে উপহার দিলাম। আর সেই ধনী মানুষটার কাছ থেকে পেলাম আমা’র জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। একটি কলা যার দাম হাজার কোটি টাকা।

গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জের বড় বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দিন দীপু। ওই সময়ের অ’ভিজ্ঞতা শেয়ার করতে তিনি এই কথাগুলো বলছিলেন। করো’না মোকাবেলা এবং মানুষের জীবন বাঁ’চাতে নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন শেখ সালাউদ্দিন দীপু। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে গিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন প্রশাসনের উপহার খাদ্যসামগ্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *