সালমানের দেয়া সেই কাগজ আজও রেখে দিয়েছি : ববিতা

বাংলাদেশের সিনেমা’র ইতিহাস সৃষ্টিকারী নায়ক সালমান শাহ। মৃ’ত্যুর দু’যুগ পরও এখনও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তার। এখনও টিভি পর্দায় তার অ’ভিনীত ছবি প্রচার হলে দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখেন।

আজ ৬ সেপ্টেম্বর, তারা না ফেরার দেশে পাড়ি জমানোর দিন।মৃ’ত্যুর ২৪ বছর পরও শুধু দুর্দান্ত অ’ভিনয় এবং ফ্যাশনের ভিন্নমাত্রা দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে অম’র হয়ে আছেন সালমান শাহ। দিন দিন যেন তার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। সেইসঙ্গে যোগ হচ্ছে নতুন প্রজন্মের দর্শকের মনে আফসোস, সালমানের নতুন সিনেমা হলে গিয়ে দেখতে না পারার।

সেই সালমান শাহ অল্প দিনের ক্যারিয়ারে ২৭টি চলচ্চিত্রে অ’ভিনয় করেছেন। তার মধ্যে ৪টি ছবিতে তিনি পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতার সঙ্গে অ’ভিনয়ের সুযোগ। এগুলো হচ্ছে বাদল খন্দকারের ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, দীলিপ সোমের ‘মহামিলন’, শি’বলী সাদিকের ‘মায়ের অধিকার’ ও জাকির হোসেন রাজুর ‘জীবন সংসার’।

দুটি ছবিতে সালমানের মায়ের ভূমিকায় এবং দুটি ছবিতে সালমানের ভাবির ভূমিকায় অ’ভিনয় করেন ববিতা। সালমান শাহকে হা’রানোর ২৪ বছরে সন্তানতূল্য অ’ভিনেতাকে স্ম’রণ করেছেন ববিতা। তার স্মৃ’তির দেয়ালে সাঁটানো ছবিগুলোতে চোখ বুলিয়ে দেখা গেল অন্য এক নায়ক সালমানকে।যেখানে নারী শিল্পীর প্রতি তার সম্মান মুগ্ধ করে যায়। ববিতা বলেন, ‘সালমানকে আমি ভীষণভাবে মিস করি। যখন টিভিতে ওর অ’ভিনীত গান-সিনেমা চলে তখন খুব ক’ষ্ট লাগে। ও আমা’র এতো কাছের আর এত আপন ছিলো, বলার মতো নয়। ওর সঙ্গে অল্প কাজ হলেও মনে হয় আমি ওকে অনেকদিন ধরে চিনেছিলাম।

কী’ আন্তরিকতা! কী’ সম্মান। সালমান আমাকে খুব সুন্দর করে ডাকতো আর এতো সুন্দর ভাষায় কথা বলতো সেগুলো আমা’র কানে খুব বাজতো। যখন আমি ওর মায়ের চরিত্র করতাম তখন সালমান বলতো ‘ইউ আর সো সুইট মাদার’। একটা ঘটনা বলি। আমি একটা সিনেমা’র শুটিং করছিলাম পাহাড়ে।

ববিতা-সালমান
শুটিংয়ের সময় আমা’র সহকারী ছাতা এবং চেয়ার সঙ্গে রাখতো। কিন্তু সেদিন ও ভুল করে চেয়ারটি আনেনি। তখন সালমান একটি চেয়ার আমাকে এগিয়ে দেয়। সে বলে, ‘আপু আপনাকে এই চেয়ারটি আমি উপহার দিলাম।’ সেই চেয়ারটি আমি অনেকদিন রেখে দিয়েছি। গিফটি খুব ছোট।কিন্তু এখানে যে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসাটা মিশে আছে তা অমূল্য।’ ‘সালমান আমাকে ফোন ব্যবহার করা শিখিয়েছে। তখন নতুন সিটিসেল নামে বড় বড় সাইজের কিছু ফোন বাজারে আসে। আমি এতো ফাংশন জানতাম না। ও আমাকে একটি কাগজে সব লিখে দিয়েছিলো কী’ভাবে ফোনটি ব্যবহার করবো।

সেই কাগজ আজও রেখে দিয়েছি’- যোগ করেন আবেগপ্রবণ ববিতা। স্মৃ’তির দোলনায় দুলে ববিতা শোনালেন সালমানকে নিয়ে আরও এক গল্প। বলেন, ‘আউটডোরের শুটিংয়ের একটি মজার ঘটনা আছে। আসলে আমাদের কাজ কম হয়েছে কিন্তু অনেক অনেক স্মৃ’তি জমা হয়ে আছে একসঙ্গে।

শুরু করলে সব বলতে ইচ্ছে করে। একবার আম’রা একসঙ্গে শুটিংয়ে যাবো বলে ঠিক হলো। হঠাৎ করেই সালমানের একটি জরুরি একটি কাজ পরে গেলো। ওদিকে সেই সকাল থেকেই শুটিং শুরু হবার কথা। আমি রেডি হচ্ছি বের হবো। এমন সময় সে আমাকে ফোন করলো।বললো, ‘ম্যাম আপনি একটা কাজ করেন। আমা’র একটি উপকার করে দেন। আমি যদি ডিরেক্টরকে বলি যে আমা’র একটা কাজ আছে এবং আমা’র আসতে দেরি হবে তাহলে তার খা’রাপ লাগতে পারে। রেগেও যেতে পারে। কারণ অনেক বড় এরেজমেন্ট হয়েছে, অনেক বড় ইউনিট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *