করোনায় আক্রান্ত পরিবারকে এক গ্লাস পানি দেয়ার মতো কেউ নেই!

মহামারী নোভেল করোনা কোভিড-১৯ভাইরাসের আঘাতে সারা বিশ্ব যখন থমথমে বিরাজ করছে’ বরিশাল বাবুগঞ্জ বাহেরচর সরকারি হাসপাতালের সেই চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে যখন নিজেই একটু ক্লান্ত হয়ে গেছে ঠিক তখনই সমাজে একটা ঝড় উঠে আসছে। আবুল কালাম আজাদের দেহে করোনা বিরাজ করছে।

তখনো সে ভেঙ্গে পড়েনি একটুও। প্রশাসন যখন তার বাড়ি মাধবপাশা ইউনিয়নের মোহনগঞ্জ বাজার সংলগ্ন লকডাউন করে দিছে তখন সে নিজেই গাড়িতে গিয়ে বসে পড়ল কারণ তার শরীরে করোনা হইতেই পারে। আবুল কালাম আজাদ কে যখন পরীক্ষা করা হলো তখন তাকে চিহ্নিত করা হলো তার শরীরে করোনা ভাইরাস বিরাজ করছে। বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছে যে আবুল কালাম আজাদের শরীরে করোনাভাইরাস নেগেটিভ।

আজ আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (৪৫)দু চোখের জল আর বুকফাটা আর্তনাদে বলল, আমাদের গত সাতদিন ধরে প্রায় ১২টি পরিবারের ৫০জন লোককে লগডাউন করে রাখা হয়েছে কিন্তু আমাদের কোন প্রকার সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে না। আমরা তো বাহিরে যাইতে পারতাছিনা ভুক্তভোগী পারুল বেগম (৫৬) জানান, আমার স্বামী হানিফ মৃধা আজ (১২) বছর ধরে অসুস্থ অর্থাৎ আমাদের যে ৫০জন লোক লগডাউন করে রাখা হয়েছে আমরা প্রত্যেকেই দিন মজুর কেউ রিক্সা চালায়, কেউ ভেন চালায় এবং কেউ দিন মজুর আর কেহ মাছ বিক্রয় করে আর আবুলের বাড়ি থেকে আগে আমরা পানি খাইতাম।

এখন আবুলের বাড়ি যাইতে আমাদের নিষেধ এখন আমরা কোন খানে যাইতে পারতাছিনা আমরা পুকুরের পানি পান করতেছি। এভাবে থাকলে তো আমরা না খেয়ে মারা যাবো। তাছাড়া মাছ বিক্রেতা বলল, ভাই আমার প্রায় ১৮ হাজার টাকার মাছ কেনা ছিল তা আমি বিক্রি করতে পারিনি কারণ আমাদের তো বাহিরে যেতে দেয়া হয়নি। তাছাড়া গবাদিপশুও না খেয়ে মারা যাচ্ছে। প্রশাসন যখন আবুলের বাড়ি লকডাউন করে দেয় সেই কারনে আমাদের আটকে দেয়। কারণ আমাদের বাড়ির পাশের লোক আবুল।

তখন হেনোয়ারা( ৫০)স্বামী হারুন হাং, রুচিয়া বেগম (৬৫)স্বামী মৃতঃচান মিয়া সবার সাথে একমত হয়ে বলেন,বাজার কমিটির সভাপতি কে ডেকে বলা হয়েছিল যে আমাদের দেখাশোনা করার জন্য কিন্তু আমরা কাউকে পাইতেছিনা মেম্বার, চেয়ারম্যান তারা আমাদের ফোন ধরতেছে না। আমরা কি করব! আমরা কি খাবো! আমরা কিভাবে বাঁচব?তবে ৯৯৯ স্থানীয় জনগন ফোন দেওয়ায় এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ বিন আলম জানান, এটাতো জনপ্রতিনিধিদের দেখার কথা আমি তাদের সাথে কথা বলে দেখি। আজ স্থানীয় লোকজন ১২জন পরিবারকে নিজেদের সাধ্যমত চাল, ডাল আলু পিঁয়াজ ইত্যাদি সহযোগিতা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *