সব হারানো সেই ফজলু পেল চাকরি সাথে দুটি রিকশা

সোমবার রাজধানীর জিগাতলা এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদে অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তখন বেশ কয়েকটি অটোরিকশা ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছিল ফজলুর রহমান নামের এক ব্যক্তির রিকশা।

নিজের একমাত্র সম্পদ রিকশাটি তুলে নেয়ার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে দোকানের কাজ হারিয়ে ১৫ দিন আগে ৮০ হাজার টাকা ধার-দেনা করে রিকশাটি কিনেছিলেন তিনি।

এক গণমাধ্যমের তোলা তার কান্নার বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তার এই কান্নার প্রধান কারণ ছিল সংকটকালের অবলম্বন রিকশাটি হারানো।

এক পর্যায়ে তার কান্নার ছবি চোখে পড়ে সুপারশপ ‘স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসিরের। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে বলার পর ফজলুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং তানিম করিম, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহ মো. রিজভী রনী এবং মিডিয়া-পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার কামরুজ্জামান মিলু।

এরপর বুধবার সন্ধ্যায় তেজগাঁওয়ে একটি রেস্তোরাঁয় ‘স্বপ্ন’র উদ্যোক্তা হওয়ার অফার লেটার তার হাতে তুলে দেয়া হয়। আর এভাবেই স্বপ্নের উদ্যোগে উদ্যোক্তা হচ্ছেন রিকশাচালক ফজলুর রহমান।

‘স্বপ্ন’র উদ্যোগে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টা জানার পর ফজলুর রহমান বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কারণ তিনি এখন দুটি রিকশার মালিক। আরও একজন তাকে একটি রিকশা কিনে দেবেন বলেও জানান তিনি। এই রিকশাগুলো ‘স্বপ্ন’র হোম ডেলিভারি সার্ভিসে কাজে লাগাতে চান তিনি, হতে চান একজন উদ্যোক্তা।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমার দেশের বাড়ি কুমিল্লা। একটা সময় সিনজির গ্যারেজে কাজ শিখতাম। তারপর টুকটাক করে টাকা জমিয়ে ধার করে রিকশাটা কিনেছিলাম। সেই রিকশা হারানোর পর কী কষ্ট হচ্ছিল বোঝাতে পারব না। কিন্তু আজ আমার খুব ভালো লাগছে। ভেতরের আনন্দটা এখন আর বোঝাতে পারব না। ভালো একজন উদ্যোক্তা হয়ে ব্যবসটা ভালোভাবে চালিয়ে যেতে চাই। স্বপ্নকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *