আবর্জনা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটিকে নিতে চায় ২৯টি পরিবার!

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে রাস্তার পাশের আবর্জনা থেকে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতককে দত্তক নিতে চান অনেকে। এ পর্যন্ত শিশুটিকে দত্তক নিতে ২৯ জন আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের চেষ্টা ও তদবিরের কারণে শিশুটি কাকে দেয়া হবে সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড। অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত এখন গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। শিশুটি বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার হেফাজতে রয়েছে।

গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার গোলখালী এলাকার রাস্তার পাশে একটি ব্যাগের মধ্যে থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

গোলখালী এলাকার মৎস্য চাষি ইসরাইল বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার ও পঞ্চানন মন্ডল মৎস্য ঘেরে যাওয়ার গোলখালী মহাশ্মশান থেকে ১০০ গজ দূরে রাস্তার পাশে আবর্জনাযুক্ত জায়গায় একটি কাপড়ে মোড়ানো ব্যাগের ভেতরে কান্নার শব্দ শুনতে পান। কাছে গিয়ে ব্যাগের ভেতর থেকে একটি নবজাতক ছেলে শিশুকে উদ্ধার করেন তারা। তাৎক্ষণিক তারা নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ সার্জিকাল ক্লিনিক পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়েবুর রহমান জানান, আবর্জনা থেকে উদ্ধার হওয়ার ৩-৪ ঘণ্টা আগে শিশুটির জন্ম হয়েছে। বর্তমানে আমার তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে রাজার হালে রয়েছে শিশুটি। শিশুটিকে দেখভালের জন্য আমি নিজ দায়িত্বে একজন নারীকে রেখে দিয়েছি। বাচ্চাটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো রয়েছে।

অন্যদিকে এই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেন। ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৯ জন লিখিতভাবে আবেদন করেছেন শিশুটিকে নিজের কাছে পেতে।

পরে শিশুটিকে ঘিরে গঠন করা হয় শিশু কল্যাণ বোর্ড। শিশুটির ভবিষ্যত নিরাপত্তার জন্য অভিভাবকত্ব পেতে এই বোর্ড জুড়ে দিয়েছে আটটি শর্ত। শিশুটির নামে ৩০ হাজার টাকা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করতে হবে, পৌরসভার বাইরে হলে ৫০ শতক কৃষি জমি আর ভেতরে মধ্যে হলে ১০ শতক জমি লিখে দিতে হবে, কমপক্ষে অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করাতে হবে, সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দিতে হবে, সব ধরনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, যিনি দত্তক নেবেন তিনি আর কাউকে দত্তক নিতে পারবেন না, স্বামী ও স্ত্রী মিলে তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে ও শিশু কল্যাণ বোর্ড যেকোনো সময় শর্ত আরোপ করতে পারবে।

শিশুটির বিষয়ে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, শিশুটিকে নিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে। ২৯ আবেদনকারীর প্রত্যেকের আবেদন আজ (বুধবার) আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন শিশুটির অভিভাবকের দায়িত্ব কে পাবেন। এখনও শিশুটির কোনো নাম রাখা হয়নি। নতুন অভিভাবক তার পছন্দমতো নাম রাখবেন। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা বাবু বলেই ডাকছি শিশুটিকে।

শিশুটির বিষয়ে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের আহ্বায়ক ও কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রাসেল জানান, শিশুটিকে দত্তক দেয়া হবে। এরই মধ্যে দত্তক নেয়ার জন্য ২৯ জন লিখিতভাবে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। শিশুটিকে সকলেই পাওয়ার জন্য চেষ্টা তদবির ও সুপারিশ করছেন। শিশুটির দত্তকের দায়িত্ব কে পাবেন সেটি নির্ধারণ করে দেবেন সাতক্ষীরা শিশু আদালত। আমরা সবগুলো আবেদন সুপারিশ করে পাঠাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *