নলকূপ দেওয়ার কথা বলে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চুর নাম ভাঙ্গিয়ে কাজুলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গভীর নলকূপ দেওয়ার কথা বলে দেড়শত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জসিম সরদার নামে এক প্রতারক। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা জসিম সরদারের বিরুদ্ধে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানাগেছে, কাজুলিয়া ইউনিয়নের হোসেন সরদারের ছেলে জসিম সরদার উপজেলা চেয়ারম্যানের ঘনিষ্টজন। সেই ঘনিষ্টতাকে পুজি করে উপজেলা চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে ইউনিয়ন বাসীর মাঝে একশত গভীর নলকুপ দেওয়ার কথা বলে প্রায় দেড়শত ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় জসিম। প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নলকুপতো দূরের কথা ফোন করে টাকা ফেরত চাইলে ভূক্তভোগীদের উল্টো হুমকি দিচ্ছে ওই প্রতারক।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী এস এম মুনজুর আলম বলেন, জসিমের সাথে উপজেলা চেয়াম্যানের মহোদয়ের ভাল সম্পর্ক এ বিষটি ইউনিয়নের অনেকেই জানেন। সেই সুজোগ নিয়ে জসিম এলাকায় বলে, কাজুলিয়া ইউনিয়নে উপজেলা চেয়ারম্যান বাচ্চু ভাই একশতটি গভীর নলকুপ বরাদ্ধ দিয়েছে। নলকুপ বসাতে খরচের কথা বলে প্রায় দেড়শত ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় জসিম। চেয়ারম্যানের কথা বলায় আমরা বিশ্বাস করে এতগুলি টাকা দিয়ে প্রতারকের খপ্পরে পড়েছি। এখন নলকুপতো দুরে থাক টাকা ও ফেরত পাচ্ছি না। এখন সে এলাকায় আসে না।

অপর ভূক্তভোগী আবু তাহের দাড়িয়া জানায়, জসিম সরদার বাচ্চু ভাইয়ের নির্বাচন করে। নির্বাচনের পর জসিম এলকার ১০ জনের নিকট থেকে ১০ হাজার করে টাকা নিয়ে ১০টি গভীর নলকুপ এনে দেয়। বাচ্চু ভাই এই নলকূপের ব্যবস্থা করে দিয়েছে বলে জানান দেন। পূর্বে এলাকার ১০ জন ব্যক্তি নলকুপ পাওয়ায়, সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রায় দেড়শত ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন তিনি এলাকায় থাকেন না। ফোনেও তাকে পাওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জসিম সরদারের সাথে মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমান খান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে দোষি প্রমাণীত হলে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *