মেডিকেল প্রশ্নফাঁসের মাস্টারমাইন্ড সালাম গ্রেফতার

স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর কর্মচারী আবদুস সালাম এক দশক ধরে মেডিকেলে ভর্তির প্রশ্নফাঁস করে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ। এ ঘটনায় আগে গ্রেফতার ১১ জনই সালামের আত্মীয়। সিআইডির সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই চক্রে যুক্ত অসাধু চিকিৎসক, কোচিং সেন্টারও। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন যারা কিনেছেন তাদেরও ধরা হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

২০১৫ সালে মানিকগঞ্জের কোহিনুর হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় বরখাস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর মেশিনম্যান আবদুস সালাম। মঙ্গলবার রাজধানীর বনশ্রী থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। জানানো হয়, ২০০৬ সাল থেকে প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন সালাম।

সিআইডি সাইবার পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম বলেন, সে প্রশ্ন নিয়ে খালাতো ভাই জসীমকে দিত। জসীম সারাদেশে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ছড়াত। সবাই প্রায় একই পরিবারের। জসীমের বড় বোন হল মিরা। মিরা তাহলে সালামের খালাত বোন। মিরার হাসবেন্ড মানে ভায়রা ভাইও জড়িত। এভাবে সবাই জড়িত ছিল।

১৯ জুলাই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেডিকেলের প্রশ্নফাঁসের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জসিম উদ্দিন ভূইয়াসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরা সবাই আবদুস সালামের আত্মীয়। এই সিন্ডিকেটে আছে চিকিৎসক ও কোচিং সেন্টারও।

বিশেষ পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমরা কোচিং সেন্টারের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছি। জসীমের ৩৮টা অ্যাকাউন্টের তথ্য পেয়েছি। সেখানে ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। যখন মেডিকেল পরীক্ষাটা হয়, সাধারণত অক্টোবর নভেম্বর মাসে, তখন এসব অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে। তিনি বলেন, এটা আমরা তদন্ত করব। এখনো কাউকে দোষী বলতে পারি না।

ফাঁস হওয়া প্রশ্নের মাধ্যমে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে ধরা হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *