অভাবের সংসার চালাতে ২০ বছর ধরে মাঝির কাজ করেন আবেদা বেগম, পাশে দাড়ালো প্রশাসন

‘নৌকার মাঝি আবেদা বেগমের ২০ বছরের সংগ্রাম’ শিরোনামে ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় যুগান্তর অনলাইনে একটি সচিত্র সংবাদ আপলোড হয়। সংবাদটি পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। নজরে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের।

তৎক্ষণাৎ প্রধানমন্ত্রীর দফতর হতে আবেদা বেগমের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগমকে নির্দেশ দেয়া হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে নির্দেশনার আলোকে রোববার দুপুরে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবেদা বেগমকে তার কার্যালয়ে খবর দিয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি আবেদা বেগমের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ -খবর নেন এবং তার ভাঙা নৌকা মেরামত করার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এছাড়া তার অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা, নদীতে বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেলে আবাসনের ব্যবস্থা, মাসিক খাদ্য সহায়তা প্রদানসহ (ভিজিডি) সরকারের পক্ষ হতে সার্বিকভাবে তার পাশে থাকার জন্য আশ্বস্ত করেন। পরে ইউএনও চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলুসহ নানা খাদ্য সামগ্রী বোঝাই একটি বস্তা তার হাতে তুলে দেন।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাড়াও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাঈদ মণ্ডল, দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম, গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তরের গোয়ালন্দ প্রতিনিধি শামীম শেখসহ স্থানীয় ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অসহায় আবেদা বেগম তার পাশে দাঁড়ানোয় সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং যুগান্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত,অভাবের সংসারের প্রয়োজনে আবেদা বেগম (৫৫) একজন নারী হয়েও টানা ২০ বছর ধরে তিনি খেয়া নৌকার মাঝির কাজ করছেন। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর কাওয়ালজানি গ্রামের আনছার শেখের (৬৩) স্ত্রী। তার স্বামী অসুস্থ হয়ে দুই বছর ধরে কাজকর্ম করতে পারে না। অর্থের অভাবে তার সুচিকিৎসা করাতে পারছে না। পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে তার ঘরবাড়ি। যে কোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে।

পাঁচটি মেয়ে ও দুইটি ছেলের মধ্যে বড় চার মেয়ে ও ছেলের বিয়ে হয়ে আলাদা সংসার করছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছোট মেয়ে ও ক্লাস ফোরে পড়া ছোট ছেলে এবং অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তার সংগ্রামী জীবন।

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *