সৃজিতের পাশে নেই মিথিলা

আজ ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির জন্মদিন। তাঁর দর্শক ও ভক্তরা দিনের শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নির্মাতাকে জানাচ্ছেন শুভেচ্ছা। গত মাসে যখন বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও সৃজিতের স্ত্রী রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা ভারতে যান, তখনই ধারণা করা যাচ্ছিল, সৃজিতের এবারের জন্মদিনটা হয়তো বিশেষ হবে। কিন্তু হঠাৎ করে কাজের ডাক এসে পড়ায় বিশেষ দিনটা বিশেষভাবে কাটানো হলো না। এই জন্মদিনও সৃজিতকে কাটাতে হলো মিথিলা ও পরিবারকে ছাড়া একা, দূরদেশে।

‘খুব ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশে গিয়ে, বাংলাদেশি শিল্পীদের নিয়ে কাজটা করব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে, তা সম্ভব হবে না।’

খুব বেশি দূরে নয়। সৃজিত এখন আছেন মুম্বাইয়ে। সেখানে নতুন সিনেমার শুটিং–পূর্ববর্তী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২১ সেপ্টেম্বর সেখানে কাজ শুরু করেছেন সৃজিত। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশি লেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের উপন্যাস ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি’ অবলম্বনে নির্মিতব্য ওয়েব ফিল্মের কাজে মুম্বাই অবস্থান করছেন সৃজিত। ১৮ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে এই নির্মাতা লিখেছিলেন, ‘খুব ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশে গিয়ে, বাংলাদেশি শিল্পীদের নিয়ে কাজটা করব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে, তা সম্ভব হবে না।’

নতুন ছবির কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজিত ছিলেন যোগাযোগের বাইরে। কথা হয় মিথিলার সঙ্গে। কলকাতা থেকে মিথিলা জানান, তাঁর জন্মদিনে তিনি ও সৃজিত—দুজনই ছিলেন দুই দেশে। এবার এক দেশে থেকেও একসঙ্গে জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে পারলেন না। গত ২৫ মে ছিল মিথিলার জন্মদিন। সে সময় বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেই করোনা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ১৫ আগস্ট সড়কপথে মিথিলা ও তাঁর মেয়ে আয়রা বিশেষ ব্যবস্থায় ভারতে যান। ভারত সীমান্ত থেকে মিথিলা ও আয়রাকে গ্রহণ করেন সৃজিত।

মিথিলার কাছ থেকে জানা গেল, মুম্বাই যেতে হবে বলে সৃজিতের জন্মদিনের উদ্‌যাপন আগেভাগেই করে ফেলেছিলেন তাঁরা। যেহেতু এখনো পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, তাই বাইরে খাওয়া কিংবা পার্টির চিন্তা আগেই বাদ দিয়েছিলেন। জন্মদিন উপলক্ষে সৃজিত ও পরিবারের সবার জন্য মিথিলা রান্না করেছিলেন চিংড়ির মালাইকারি ও মাটন কষা। জন্মদিনের এই ভোজ উদ্‌যাপনের পরদিনই সৃজিত কাজের উদ্দেশে মুম্বাইয়ে উড়াল দেন। জানা গেছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বাড়ি ফিরবেন সৃজিত। তবে আবার বাংলাদেশে কবে ফিরবেন মিথিলা, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। মিথিলা বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের আকাশপথ চালু না হলে দেশে ফেরা সম্ভব হবে না। আমি মানসিকভাবে মোটামুটি প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি, এ বছরের বাকিটা সময় হয়তো এখানেই থাকতে হবে।’

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *