যুবতী রাধে গান নিয়ে বিতর্কে এবার মুখ খুললেন চঞ্চল চৌধুরী

‘আইপিডিসি আমাদের গান’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সংগীতায়োজনে ‘যুবতী রাধে’ গানটি প্রকাশ হয়েছে ইউটিউবসহ সোশাল মিডিয়ায়। এটি গেয়েছেন জনপ্রিয় দুই তারকা চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওন। তাদের কণ্ঠে গানটি বেশ সাড়া ফেলেছে।

এ গান নিয়ে বেধেছে বিতর্ক। গানটি মূলত সরলপুর ব্যান্ডের। কিন্তু আইপিডিসি গানের পরিচয়ে তাদের কোনো কৃতজ্ঞতা দেয়নি। সেখানেই বিপত্তি। তাই সরলপুর ব্যান্ড গানটি সরিয়ে নিতে আইপিডিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে নিজেদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে গান সরিয়েও নিয়েছে আইপিডিসি।

তবে গানটি সরে যাওয়া নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ সরলপুর ব্যান্ডের পক্ষে বলছেন তো কেউ আইপিডিসি, পার্থ বড়ুয়া, চঞ্চল ও শাওনের প্রশংসা করছেন এই গানটিকে চমৎকারভাবে নতুন করে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য। তারা ‘যুবতী রাধে’ গানটিকে প্রচলিত গান দাবি করে উল্টা সরলপুর ব্যান্ডের মালিকানা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।

এমন জটিলতার সামনে দাঁড়িয়ে গানটি নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘মনপুরা’র সোনাই খ্যাত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তিনি জাগো নিউজকে আজ ২২ অক্টোবর দুপুরে বলেন, ‘খুব অবাক হয়েছি আমি পুরো ঘটনাটিতে। ‘যুবতী রাধে’ গানটিকে আমরা সবাই প্রচলিত গান বলেই জানতাম।

বহু বছর আগের গান এটা। কিছু কথা আর সুর পরিবর্তন হয়েছে।এর কথা, ভাব, সুর সেই প্রমাণ দেয়। তখনকার সাধকেরা রাধাকৃষ্ণের প্রেম নিয়ে পালা-পুঁথি লিখতেন, নানা পদ রচনা করতেন। এমন প্রচলিত গানের জন্য অনুমতি লাগবে সেটা কেউ ভাবেনি। ইউটিউবেও এই গানের অনেকগুলো ভার্সন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোনো ব্যান্ডের নাম ক্রেডিট হিসেবে দেয়া নেই। যদি জানা যেত গানটির মালিক সরলপুর ব্যান্ড তাহলে আইপিডিসি বা পার্থ বড়ুয়া অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতো।

আমরা সবাই দীর্ঘদিন ধরেই শিল্পচর্চার সঙ্গে জড়িত। কোনো নেতিবাচক মানসিকতা এখানে কারোর নেই।’

চঞ্চল আরও বলেন, ‘আমি শখের গায়ক। বেশ কিছু গান আমি গেয়েছি। আপনারা জানেন সেগুলোর প্রায় সবই ফোক গান। গানের কথা একটু সেদিক করে নেন অনেকেই অনেক সময়। বকুল ফুল বকুল ফুল গানটি খুব জনপ্রিয় এখন। এটা কিন্তু সর্বপ্রথম আমার কণ্ঠেই রেকর্ড হয়েছে। এরপর জলের গান গেয়েছে, দিনাত জাহান মুন্নী গেয়েছেন। এখন আমি কি বলবো যে এই গান তারা আমার অনুমতি ছাড়া কেন গাইলো? আমি এই গানের মালিক? বা আমি এই গানের কপিরাইট আমার নামে করে নেবো?

একদমই না। কারণ গানটি অনেক আগে থেকেই মানুষের মুখে মুখে বেজে চলেছে। আমি সেটাকে রেকর্ড করে সবার কাছে তুলে ধরেছি। তাই বলে এই গান আমার হয়ে গেল না। আমার কণ্ঠে আরেকটি জনপ্রিয় গান আছে ‘ফুল গাছটি লাগাইছিলাম ধুলা মাটি দিয়া রে’। এটি পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুরা অঞ্চলের গান। আমি গাওয়ার পর খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকেই মুখে মুখে বলেন, এটা চঞ্চলের গান। তাই বলে এটা তো আমার হয়ে গেল না। এর পদ রচনাকারী আমি নই।

একইভাবে ‘মনপুরা’ সিনেমায় ‘নিথুয়া পাথারে’ গানটির সবগুলো লাইনই ছিলো সংগৃহিত। কিন্তু শেষের অন্তরাটি গিয়াসউদ্দিন সেলিম লিখেছেন। তাই বলে গানটিকে কিন্তু তিনি তার দাবি করেননি। এটা সংগৃহিত গান হিসেবেই পরিচিত।’

‘কোনো গানে কেউ খানিকটা এদিক সেদিক পরিবর্তন করে যদি সেটা তার নিজের বলে দাবি করে তখন তো আসলে বলার কিছু থাকে না। শুনছি সরলপুর ব্যান্ড দাবি করেছে তাদের নামে কপিরাইট আছে ‘যুবতী রাধে’ গানটি তাদের। যদি এমনটা হয় তাহলে আইন তাদের পক্ষে। সেটা মানতেই হবে। তবে আমার কিছু প্রশ্ন আছে।

সরলপুর ব্যান্ড তাদের বক্তব্যে বলছে গানটির ৩০ ভাগ তারা সংগ্রহ করেছেন আর ৭০ ভাগ তাদের লেখা। জানতেই চাই যে ৩০ ভাগ তারা সংগ্রহ করেছেন সেটা কার কার থেকে? তাদের কপিরাইটের বেলায় বিষয়টা কি হবে? আর যে ৭০ ভাগ তারা লিখেছেন সেখানে কোন কোন লাইনগুলো তাদের লেখা? কারণ বেশিরভাগই লাইন মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাইয়ের লেখা মৈমনসিংহ গীতিকার মহুয়া গানের পদের মতো। প্রায় হুবহু। জানিনা কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যা বা নিয়মটা কেমন। সেটাই জানতে চাই তাদের কাছে। কীভাবে গানটি তাদের মালিকানায় এলো।

তারপর একটা বিষয় হলো যে গানটি আমি ও শাওন গেয়েছি সেই গানের অনেক গুলো ভার্সন ইউটিউবে রয়েছে। সেগুলোর কপিরাইট কার? সেগুলো তো অনেকদিন ধরেই রয়েছে সেখানে। অনেক ভিউও আছে। তাহলে সেগুলো না সরিয়ে যখন আমরা গাইলাম এবং গানটি খুব সাড়া পেল তখন কেন সরানো হলো?- যোগ করেন ‘আয়নাবাজি’খ্যাত চঞ্চল।

চঞ্চল-চৌধুরী চলচ্চিত্র ঢালিউড

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *