করোনার মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বিদ্যালয় বন্ধের মধ্যেই বেতন নিয়ে বড় সুখবর পেলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষকদের মাসিক বেতন থেকে কনজুমার লোনের কিস্তি বাবদ যে টাকা কর্তন করা হতো সেটা আগামী মাসের বেতন থেকে কর্তন করা হবে না।প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি গ্রুপে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেন ‘মাসুদুর রহমান’ নামের একজন। তিনি লেখেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের আগামী মাসের বেতন থেকে কনজুমার লোনের কিস্তি কর্তন করবে না (সোনালী ব্যাংক)।

এদিকে, ঝুঁকি-ঝামেলা ছাড়াই পেনশন পাচ্ছেন যশোরের প্রাথমিক শিক্ষকরা। যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলমের উদ্ভাবিত পেনশন এবং পিআরএল সিস্টেম এর কারণে প্রাথমিক পর্যায়ের কয়েকশ’ শিক্ষক কর্মচারী কোন রকম ঝুঁকি-ঝামেলা ছাড়াই এই সুবিধা পাচ্ছেন। এই কারণে সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের কাছে মডেল হয়েছে যশোর। এই সিস্টেম বর্তমানে দেশের অন্য জায়গায় কাজে লাগানো হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, যশোর জেলায় মোট ১২৯২টি স্কুলে আট হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এসব শিক্ষকের মধ্যে কারা পেনশন এবং পিআরএল পাবেন তার একটি তালিকা করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী শিক্ষকদের জন্ম তারিখের ভিত্তিতে পেনশন এবং পিআরএল প্রদান ঠিক করা হয়। এরপর পেনশন কিংবা পিআরএলে যাওয়ার কমপক্ষে দু’ মাস পূর্বে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তার পেনশন কিংবা পিআরএলের তারিখ জানিয়ে পত্র দেয় শিক্ষা অফিস। একইসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়। শিক্ষকদের দেয়া চিঠিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করতে অনুরোধ করা হয়। শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন পাওয়ার পর উপজেলা শিক্ষা অফিস জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেনশন কিংবা পিআরএল প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতি দু’মাস অন্তর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীকে পেনশন কিংবা পিআরএলের আদেশ সংক্রান্ত পত্র হস্তান্তর করেন। ফলে, জেলা অফিসে এসে অহেতুক হয়রানি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন শিক্ষকরা। এই পদ্ধতি ইতোমধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। হয়রানি এবং তদবিরের হাত থেকে রেহাই পাওয়ায় সংশ্লিষ্টরা খুব খুশি। সারাদেশের মধ্যে এই পদ্ধতি সর্বপ্রথম যশোরে শুরু হয়। বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অবহিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা পদ্ধতিটির প্রশংসাও করেছেন

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পেনশন এবং পিআরএল প্রদানের এই পদ্ধতিটি ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। তাদের মতে, এভাবে পেনশন-পিআরএল প্রদান করলে শিক্ষক-কর্মচারীরা অহেতুক হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন। আর এটি হলে জীবনের শেষ সময়ে এসে স্বস্তি মিলবে শিক্ষক-কর্মচারীদের।

যশোরের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৩০-৩৫ বছর এক নাগাড়ে শ্রম দেয়ার পর জীবনের শেষ বেলায় কেউই দুর্ভোগ চান না। তারপরও পেনশন এবং পিআরএল নিয়ে দুর্ভোগ থাকেই। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে গিয়ে যেভাবে এগুলো দেয়া হচ্ছে তা অনেকাংশে ঝামেলাহীন। অন্ততপক্ষে জেলা অফিসে গিয়ে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হচ্ছে না। এভাবে দিলেও বৃদ্ধ বয়সে খানিকটা স্বস্তি পাওয়া যাবে।

এসব বিষয়ে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, শিক্ষকরা দেশ গঠনে আন্তরিকভাবে শ্রম দেন। কিন্তু জীবনের শেষ সময়ে এসে পেনশন কিংবা পিআরএল পাওয়া নিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। এ কারণে দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে মূলত এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষকরা চাকরি শেষে পেনশন এবং পিআরএল পাওয়া নিয়ে নানা ঝামেলা পোহান। দিনের পর দিন ঘুরতে হতো তাদেরকে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়ার উদ্যোগ নেয় যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে এটিই প্রথম ছিল। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ২০১৮ সালে প্রথম শুরু করে শিক্ষকদের হাতে পেনশন-পিআরএলের কাগজপত্র পৌঁছে দেয়ার কাজ।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *